বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন

ঝালকাঠি-১ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত বিএনপি ও জামায়াত!

ঝালকাঠি-১ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত বিএনপি ও জামায়াত!

ঝালকাঠি-১ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত বিএনপি ও জামায়াত!

সাকিবুজ্জামান সবুর:

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দীর্ঘ ১৭ বছর পর ব্যাপক উৎসাহ, কৌতুহল ও প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে এ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে। এক সময়ের বিএনপির ঘাঁটি ১৭ বছর পর নিজের জৌলুশ ফিরে পেতে ভোটারের মন জয় করতে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা কাজ করেছেন। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিকে কোন ছাড় দিতে রাজি নয় দলটির প্রধান প্রতিদ্বদ্বী জামায়াত। তাই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে। এদিকে সুযোগ বুঝে এগিয়ে যেতে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য প্রর্থীরা। প্রত্যেক প্রার্থীই ভোটারদের মন জয় করতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রতি। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনে দলটির অংশ গ্রহণ না থাকায় দীর্ঘদিনের পরিচিত ভোটের ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করছেন রাজনৈকি বিশ্লেষকরা।

১২৫ ঝালকাঠি-১ আসনটি রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৬ হাজার ৪২৭ জন নারী ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ০২ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ০২ জন ভোটার রয়েছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ১০জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।

এরা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মো. রফিকুল ইসলাম জামাল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ড. ফয়জুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে ইব্রাহিম আল হাদি, জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকে মো. কামরুজ্জামান খান, জাতীয় পার্টি- জেপি থেকে বাইসাইকেল প্রতীকে মো. রুবেল হাওলাদার, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি থেকে তারা প্রতীকে মো. সোহরাব হোসেন, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ট্রাক প্রতীকে মো. শাহাদৎ হোসেন, জনতার দল থেকে কলম প্রতীকে মো. জসীম উদ্দিন তালুকদার এবং স্বতন্ত্র থেকে মোরগ প্রতীকে মো. সাব্বির আহমেদ ও হাঁস প্রতীকে এম. মঈন আলম ফিরোজী।

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) সংসদীয় আসনটি একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৭৩ সালের পর দীর্ঘদিন এই আসনটি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা বীর উত্তম মেজর (অব.) মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর। পরে ১৯৮৬ সালে এ আসনটি চলে যায় জাতীয় পার্টির দখলে। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে আসনটিতে পুনরায় নির্বাচিত হয় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা বীর উত্তম মেজর (অব.) মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর। তবে ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি (জেপি) মনোনয়নে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ঐকমত্যের সরকারে যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর আওয়ামী লীগের দখলে ছিলো আসনটি। ২০২৩ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শাহজাহান ওমর বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও বর্তমানে একটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন।

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জামাল। তিনি ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তিনি মামলা, হামলা ও নির্যাতনের মুখেও দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভ‚মিকা পালন করছেন। পরে ২০২৪ সালের ফেব্রæয়ারিতে তাকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক করা হয়। এবারের নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ফয়জুল হক।

অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রথম দফার প্রার্থী পরিবর্তন করে ড. ফয়জুল হককে দ্বিতীয় দফায় মনোনয়ন দেয়। বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেওয়া ড. ফয়জুল হক বাংলাদেশের অন্যতম ইসলামী ব্যক্তিত্ব, পীর ও ধর্ম সংস্কারক এবং নেছারাবাদ দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠাতা কায়েদ ছাহেব হুজুরের নাতি হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। তাই ভোটের মাঠে বিএনপি প্রার্থীর সাথে জামায়াতের প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

স্থানীয় ভোটারদের ধারণা, এবার বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জামাল রাজনীতি চমক দেখাবেন। আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ত্যাগী ভূমিকা রাখা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে তার নাম সবার মুখে মুখে। পথে, ঘাটে, চায়ের আড্ডায় সর্বত্র যেন তিনি আলোচনায় রয়েছেন। ফলে সব মিলিয়ে নির্বাচনটি হতে যাচ্ছে উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক এক লড়াইয়ের। দীর্ঘদিন থেকে রফিকুল ইসলাম জামাল তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের মধ্যে আস্থাও অর্জন করেছেন। মেধাবী ও সাহসী নেতা হিসেবে রাজনীতিতে তার সুনাম রয়েছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে বরাবরই তিনি সক্রিয় ভ‚মিকা পালন করেছেন। জেল ও জুলুমের শিকার এ নেতা নিজের জনপ্রিয়তা অর্জনের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপিকেও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন বিএনপির এই নেতা।

তবে তার প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ড. ফয়জুল হক ইতিমধ্যে নির্বাচনী মাঠে ব্যাপক সারা ফেলেছেন। সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে গ্রামের সহজ সরল মানুষের প্রংসশা কুড়িয়েছেন দাঁড়িপাল্লার এ প্রার্থী।

ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সহিংসতা, মামলা-হামলা ও অস্থিরতার ক্লান্তি কাটিয়ে এখন তারা উন্নয়ন, শান্তি ও কর্মসংস্থান চায়। তারা জানান, আমরা এমন নেতা চাই, যিনি দলবাজি বা চাঁদাবাজি নয়, বরং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলবেন।

 

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

কাঠালিয়া বার্তা’য় বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন : মোবাইলঃ 01774937755 অথবা ই-মেইল: kathaliabarta.com












All rights reserved@KathaliaBarta 2016-2025
Design By Rana